রবিবার ১৪ জুন ২০২৬
Online Edition

কুমারখালীতে কালের আবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে মৃৎশিল্প

মাহমুদ শরীফ, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) : কালের আবর্তনে আর সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে বিলিন হতে চলেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্প। এলুমেনিয়াম, মেলামাইন ও প্লাষ্টিকের ভীড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির তৈরী মৃৎ শিল্পের প্রয়োজনীয় চাহিদা। ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পটি। এক সময় কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক শত পরিবার প্রত্যক্ষভাবে এ শিল্পের সাথে জড়িত ছিল। আধুনিকাতার ছোঁয়া ও কালের পরিক্রমায় হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার এখন তাদের পূর্বসুরীদের এ পেশাকে ধরে রেখেছেন। এখানকার তৈরী মৃৎশিল্পের সুনাম ও সুখ্যাতি ছিল দেশব্যপী।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কল্যাণপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাল বংশ নিচিহ্ন হয়ে এখন মাত্র সাতটি পরিবার রয়েছে। অথচ একসময় এখানে প্রায় দুই শাতাধিক পাল পরিবার বসবাস করত। কয়া ও ধরমপাড়ার পালরা আর পেশায় টিকে নেই। পেশা বদলিয়েছে তারা।
মাটি দিয়ে চাকের সাহাস্য যাবতীয় মৃৎশিল্প তৈরী করা হয়। এর পর তা রোদে শুকিয়ে জলন্ত চুল্লীতে দিয়ে পোড়ান হয়। একসময় এখানকার পালেরা  হাড়ি, পাতিল, কলসি, কড়াই, ব্যাংক, বিভিন্ন পিঠা তৈরীর চাঁচ, ছোট-ছোট খেলনা ইত্যাদী সব জিনিসপত্র তৈরী করলেও এখন শুধুমাত্র অর্ডার নিয়ে দইয়ের পাত্র, সো পিচ, ফুলের টব ও গুড় এর কোলা তৈরী করে কোন রকমের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ফলে মৃৎ শিল্পের নিপূন কারিগরেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে আজ অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বিলুপ্ত প্রায় এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় কয়েকজন গড়ে তুলেছেন একটি মৃৎশিল্প সমবায় সমিতি। এ সমিতির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী সেনেটারী লেট্রিনের চাক, পানির ট্যাংকি তৈরী করে ইতিমধ্যে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্বল্প মূল্য আধুনিক মানসম্মত এসব জিনিসের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্বেও প্রয়োনীয় অর্থের অভাবে তৈরী করতে পারছে না।
মৃৎ শিল্পের কারিগড় সুব্রত বাইন বলেন, এ শিল্পের মূল উপকরন হল মাটি। বর্তমানে মাটি পাওয়া যাচ্ছে না আবার যাও বা পাওয়া যাচ্ছে অধিক মূল্য দিয়ে কিনতে হচ্ছে। মটির তৈরী জিনিসপত্র সে রকম দামে বিক্রি করতে পারছি না, মাটির এ সমস্ত পাত্রের চাহিদাও আগের মত নেই। তাই অন্য কিছু করার চিন্তা করছি।  
কল্যাণপুর মৃৎশিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি বলেন, বিলুপ্ত এ শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে সমবায় সমিতিটি গড়ে তোলা হয়েছে। এই সমিতির মাধ্যমে মৃৎশিল্পের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার চেষ্ট করা হচ্ছে। সমিতি থেকে অধুনিক  মানসম্মত দীর্ঘস্থায়ী সেনেটারী ল্যাট্রিনের চাক তৈরী করা হয়েছে এবং টাইলস তৈরীর চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। যা দেশের চাহিদা পূরন করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারনে সম্ভব হচ্ছে না। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে হারিয়ে যাওয়া মৃৎ শিল্পের অতীত ঐতিহ্য পুনরায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব এমনটি আশা করছেন এখানকার পাল সম্প্রদায়ের মানুষেরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ